
মেকআপ প্রোডাক্টের মেয়াদ জানাটা অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও, এটি ত্বকের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমাদের প্রায় সবার মেকআপ ব্যাগেই কিছু না কিছু বেসিক প্রসাধনী থাকেই—ফাউন্ডেশন, লিপস্টিক, মাসকারা, আইশ্যাডো ইত্যাদি। তবে এই সব প্রোডাক্টের একটি নির্দিষ্ট ব্যবহারের সময়সীমা বা মেয়াদ থাকে, যা আমরা অনেকেই অবহেলা করি।
আজকের ব্লগে আমরা জানব কোন মেকআপ আইটেম কতদিন পর্যন্ত নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায়, এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহারে কী কী সমস্যা হতে পারে।
আজকের এই ব্লগে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো:
🔹 মেকআপ প্রোডাক্ট কখন এক্সপায়ার করে
🔹 প্রতিটি আইটেমের গড় শেল্ফ লাইফ
🔹 ব্যবহারযোগ্যতা চেনার উপায়
🔹 Junaina Cosmetics Shop-এর পণ্য কিভাবে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে
মেয়াদ উত্তীর্ণ মেকআপ আপনার অজান্তেই ক্ষতি ডেকে আনছে?

একবার চিন্তা করুন – আপনি একটি লিপস্টিক কিনেছিলেন দুই বছর আগে। খুব একটা ব্যবহার হয়নি, তাই আজ হঠাৎ একটি অনুষ্ঠানে বের করার আগে ব্যবহার করলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর আপনার ঠোঁটে র্যাশ, ফেটে যাওয়া বা অস্বস্তি শুরু হলো।
এটাই হচ্ছে এক্সপায়ার্ড মেকআপের প্রভাব।
আমরা প্রোডাক্ট কিনি, কিন্তু তার “PAO” (Period After Opening) মার্কিং দেখি না। এটাতে সাধারণত একটি খোলা কন্টেইনার আইকনের মধ্যে লেখা থাকে:
“6M”, “12M”, “24M”, যার মানে হলো – খোলার পর ৬, ১২ বা ২৪ মাসের মধ্যে ব্যবহার করতে হবে।
কেন মেকআপ আইটেমের মেয়াদ জানা জরুরি?

প্রথমবার প্যাকেট খুলে ফেলার পর থেকেই প্রসাধনীতে সংক্রমণ শুরু হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস এবং ভাইরাসের সংস্পর্শে পড়ে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায়, কোনও আইটেম দীর্ঘদিন খোলা অবস্থায় রেখে পরবর্তীতে ব্যবহার করলে তা ত্বকে র্যাশ, অ্যালার্জি, ব্রণ কিংবা চর্মরোগ সৃষ্টি করে।
তাই মেয়াদের ভিতরে ব্যবহার না করলে মেকআপ যেমন অকার্যকর হয়ে পড়ে, তেমন ত্বকের জন্যও বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়।
বেইজ মেকআপ প্রোডাক্টের মেয়াদ ও সংরক্ষণ টিপস

লিকুইড ফাউন্ডেশন:
লিকুইড ফাউন্ডেশনের উপাদানে সাধারণত পানি (Aqua) থাকে, যা ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস বা ভাইরাসের সংক্রমণের জন্য উপযুক্ত মাধ্যম। সাধারণত খোলার পর এক বছরের মধ্যেই এটি ব্যবহার করা উচিত। ফাউন্ডেশন জমে গেলে, রঙ বা গন্ধ পরিবর্তন হলে বুঝতে হবে এটি আর ব্যবহারযোগ্য নয়।
ফাউন্ডেশন কালেকশন দেখুন
Foundation Collection »
🔹 পাউডার ফাউন্ডেশন ও ফেইস পাউডার:
শুষ্ক উপাদানযুক্ত এই আইটেমগুলো সাধারণত ১৮ মাস থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে ব্যবহারের সময় পরিষ্কার ব্রাশ ব্যবহার করা উচিত, যাতে ইনফেকশন রিস্ক কমে এবং প্রোডাক্টের কার্যকারিতা ঠিক থাকে।
ফেইস পাউডার কালেকশন দেখুন
Face Powder Collection »
কনসিলার:
কনসিলার বিশেষ করে চোখ ও ত্বকের স্পট কভার করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা নিরাপদ। টেক্সচার ঘন হয়ে গেলে বা শুকিয়ে গেলে ব্যবহার না করাই ভালো।
কনসিলার কালেকশন দেখুন
Concealer Collection »
প্রাইমার:
প্রাইমার মেকআপ বেস প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয় এবং মেকআপকে দীর্ঘস্থায়ী রাখে। এটি খোলার পর ১২ মাস পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য। মেয়াদোত্তীর্ণ হলে স্কিনে ব্রণ বা র্যাশের মতো সমস্যা হতে পারে।
প্রাইমার কালেকশন দেখুন
Primer Collection »
বিবি/সিসি ক্রিম:
এই ক্রিমগুলো মেকআপ ও স্কিনকেয়ারের মিশ্রণ। শেল্ফ লাইফ ১২ মাস হলেও, নিয়মিত ব্যবহারে ৬–৮ মাসেই শেষ হয়ে যায়। গন্ধ বা কালার পরিবর্তন হলে পরিত্যাগ করতে হবে।
বিবি সিসি ক্রিম কালেকশন দেখুন
BB/CC Cream Collection »
লিপ প্রোডাক্টসের মেয়াদ
লিকুইড লিপস্টিক:
এর গড় শেল্ফ লাইফ মাত্র ৬ থেকে ৭ মাস। কারণ লিপ অ্যাপ্লায়েন্স বারবার খোলা হয় এবং বাতাসের সংস্পর্শে আসে। গন্ধে পরিবর্তন, টেক্সচারে ঘন হয়ে যাওয়া — এগুলো এক্সপায়ারের লক্ষণ।
লিপস্টিক কালেকশন দেখুন
Lipstick Collection »
বুলেট লিপস্টিক:
বুলেট টাইপ লিপস্টিক সাধারণত একটু বেশি সময় ভালো থাকে – প্রায় ১৮ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত। ঠোঁটের সংবেদনশীল অংশে ব্যবহারের কারণে মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে তা ব্যবহার একদমই নয়।
লিপ মেকআপ কালেকশন দেখুন
Lips Collection »
চোখের মেকআপ আইটেমের মেয়াদ
মাসকারা:
খোলার পর ৩ মাসের মধ্যে ব্যবহার শেষ করা উচিত। কারণ এটি চোখের পাপড়িতে ব্যবহার হয়, যেখানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। শুকিয়ে গেলে বা জ্বালাপোড়া অনুভব হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
মাসকারা কালেকশন দেখুন
Mascara Collection »
আইলাইনার ও কাজল:
লিকুইড আইলাইনার ও কাজল ৩–৬ মাস পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য। পেন্সিল টাইপ হলে ১৮–২৪ মাস ব্যবহার করা যায়, তবে নিয়মিত শার্প করে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।
আই মেকআপ কালেকশন দেখুন
Eye Makeup Collection »
আইশ্যাডো (পাউডার):
আইশ্যাডো সাধারণত ২৪ মাস পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য হলেও, নিয়মিত ব্যবহারে ব্রাশ বা আঙুল দিয়ে প্রোডাক্ট নেওয়ার কারণে এতে ব্যাকটেরিয়া জমে যেতে পারে। টেক্সচার বা রঙে পরিবর্তন হলে ফেলে দিন।
আইশ্যাডো কালেকশন দেখুন
Eye Shadow Collection »
উপসংহার:
আপনার মেকআপ ব্যাগে থাকা প্রতিটি প্রোডাক্টের মেয়াদ জানা যেমন জরুরি, তেমনি সময়মতো তা পরিবর্তন করাও গুরুত্বপূর্ণ। মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহার করলে স্কিন ইনফেকশন, অ্যালার্জি এমনকি চর্মরোগও হতে পারে। Junayna.com.bd থেকে সব প্রোডাক্ট কেনার সময় প্রোডাক্ট ডিটেইলে মেয়াদের তথ্য দেখে নিন এবং নিজের ত্বকের যত্ন নিন নিয়ম মেনে।
মেয়াদ উত্তীর্ণ মেকআপ চেনার উপায়
- প্রোডাক্টে রাসায়নিক বা বাজে গন্ধ আসলে সেটি আর ব্যবহারযোগ্য নয়
- রঙ পরিবর্তন হয় বিশেষ করে ফাউন্ডেশন, লিপস্টিক, আইশ্যাডো
- ব্যবহার করার সাথে সাথে অস্বস্তি বা র্যাশ
- পাতলা থেকে ঘন হওয়া বা কেকি টেক্সচার হয় উঠে ।
নিরাপদ ব্যবহারের টিপস: মেয়াদ যেন আগে শেষ না হয়
প্রথম ব্যবহারের দিন মার্কার পেন দিয়ে প্রোডাক্টের গায়ে লিখে রাখুন
গরম বা ভেজা জায়গায় রাখবেন না – রাখুন ঠাণ্ডা ও শুষ্ক স্থানে
ব্রাশ, স্পঞ্জ, অ্যাপ্লায়েন্স রেগুলার পরিষ্কার করুন
চোখ, ঠোঁট ও মুখের ভিন্ন ভিন্ন অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবহার করুন
যেকোনো ইনফেকশনের পর পরই সেই প্রোডাক্ট আর ব্যবহার করবেন না
সৌন্দর্য আর নিরাপত্তা দুটোই জরুরি
সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করলে আপনার পছন্দের মেকআপ প্রোডাক্ট আপনাকে অনেকদিন পর্যন্ত সুন্দর রাখতে পারবে। কিন্তু মেয়াদ পেরিয়ে গেলে, সেটা আর “beauty booster” নয় – বরং স্কিন ড্যামেজের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
Junaina Cosmetics Shop সবসময় চেষ্টা করে আপনাকে নিরাপদ, অথেনটিক এবং ট্রেন্ডি বিউটি প্রোডাক্ট পৌঁছে দিতে। এখনই ভিজিট করুন আমাদের কালেকশন:
Junaina Full Cosmetics Collection দেখুন
Add comment